সাস্থ্য শিক্ষা


সুন্দর দাঁতের জন্য যা করবেন না

|নুসরাত নীলিমা|
সুন্দর দাঁত মুখের সৌন্দর্যের একটি অন্যতম পূবশর্ত। যার দাঁত ভাল তার হাসি ভাল, আর যার হাসি ভাল সে সবার কাছে আকর্ষনীয়। তবে সুন্দর দাঁত পেতে হলে আপনাকে কিছু বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, যা মনের অজান্তেই আমরা করে থাকি। এইসব বদঅভ্যাসগুলো যে শুধু দাঁতের সৌন্দর্যই নষ্ট করে তা নয় ব্যাপক ক্ষতিও সাধন করে। আজকে আমরা এ সম্পর্কে জানবো এবং এগুলো বাদ দেয়ার চেষ্টা করবো।
দাঁত সুরক্ষায় যা যা করবেন না
১. দাঁত কিড়মিড় করা:
প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এটি দেখা যায়। মানসিক অবসাদ বা অতিরিক্ত দু:শ্চিন্তার ফলে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে দাঁতের ক্ষয় এবং মুখের অবয়ব নষ্ট হয়।
২. ঠান্ডা পানিয় এবং বরফ চর্বন:
অনেকেই দাঁত দিয়ে বরফ চর্বন করতে পছন্দ করেন। এটা দাঁতের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ঠান্ডা পানিয় দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফ্র্যাক্‌চার তৈরী করে। রঙিন পানিয় দাতের স্বাভাবিক রঙকে নষ্ট করে দেয়।
৩. খুব জোড়ে ব্রাশ করা:
খুব জোড় দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায় এবং মাড়িও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেসব প্রাপ্ত বয়স্করা খুব জোড় দিয়ে ব্রাশ করে তারা যেকোন সময় দাঁতের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে।
৪. দাঁত দিয়ে ছিপি খোলা:
অনেকেই দাঁত দিয়ে বোতলের ছিপি বা প্লাস্টিকের প্যাকেট খোলেন। দাঁতকে মজবুত রাখতে হলে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে হবে।
৫. বিভিন্ন বস্তু চর্বন করা:
অনেকে কলম,পেন্সিল বা নখ দাত দিয়ে চর্বন করে। এর ফলে দাঁতের উপরিভাগ নষ্ট হয়ে যায় এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
৬. ঠিক মতো পরিষ্কার না করা:
প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে অনেকেই ঠিক মতো দাঁত পরিষ্কার করে না। হয়তো দুইবেলা ব্রাশ করে ঠিকই, কিন্তু প্রতিবার খাবারের পর ঠিকমতো কুলি করে না। এতে দাঁতের ফাঁকে ময়লা জমে ক্ষয় করে দাঁতের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ব্যহত করে।
৭. অতিরিক্ত ফাস্টফুড এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার:
এই সব খাবার দাতের ক্ষয় এবং বিভিন্ন দন্তরোগ তৈরীতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
দাঁতের ক্ষতির জন্য দায়ী এইসব খারাপ অভ্যাসগুলো আমাদের অবশ্যই বর্জন করা উচিত। কারণ সুস্থ্য, মজবুত ও সুন্দর দাঁতই পারে আপনার সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণ করতে।
কৃতজ্ঞতা
ডা: তপায়ন সরকার
ডেন্টিস্ট
বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতা

ওজন কমাতে স্বল্প ক্যালরির কিছু খাবার-২


rupcare_low calori2
ফিগার নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের খাবারের মেনুটা এমন হওয়া উচিত যেন শরীর পুষ্টি থেকে বঞ্চিত না হয়, আবার মেদও না বাড়ে। নতুবা অপরিকল্পিত ডায়েটিং আপনাকে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার দিকে ঠেলে দেবে। গত পর্বের ধারাবাহিকতায় আসুন আরো কিছু স্বল্প ক্যালরির খাবারের কথা জেনে নিই।
স্ট্রবেরী
বিদেশী ফল হলেও বর্তমানে আমাদের দেশে স্ট্রবেরী খুবই সহজলভ্য। এর গুণের কথা শুরু করলে লিখে শেষ করা যাবেনা। ক্যান্সার প্রতিরোধ, স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই সুমিষ্ট ফলটি অপরাজেয়। ২৫০ গ্রাম স্ট্রবেরীতে যেই ক্যালরি আছে তা আধাকাপ আইসক্রীমের সমান। অর্থাৎ এটি খুবই কম ক্যালরি বহন করে, তাই খাওয়া যায় নিশ্চিন্তে।
টমেটো
টমেটো যখন লাল হয় তখন এর মধ্যে একটি উপাদন তৈরী হয়, যার নাম লাইকোপিন। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং চেহারায় বয়সের ছাপ দূর করতে এবং সূর্যের অতিবেগুণী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এর জুড়ি নেই। মজার ব্যাপার হলো রান্নার পর টমেটোর ঐ উপাদানটি আরো কার্যকরী হয়ে ওঠে, যা মেদ কমাতে সাহায্য করে।

ফুলকপিফুলের মতো দেখতে এই সব্জিটিতে রয়েছে আইসো থায়োসায়ানেট নামক একটি উপাদান, যার রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী ভূমিকা। গবেষণায় দেখা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মেদ কমাতেও এটি অনন্য ভূমিকা রাখে।
ব্রুকলি
ফুলকপির সমগোত্রীয় ব্রুকলির একটি ফুলেই রয়েছে প্রায় ৩ গ্রামের মতো প্রোটিন যা এক টুকরা মুরগীর বুকের মাংসের সমান। এতে আরো আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ এবং আয়রনের মতো অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। ভিটামিনের মধ্যে আছে ভিটামিন-এ, সি, এবং কে। ভেবে দেখুন ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টি এতো, শরীরের ওজন ঠিক রাখতে এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে।
ওল কপি
সব্জি হিসাবে আদর্শ ওল কপিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই সামান্য। প্রচুর ভিটামিন সি তে ভরপুর ওলকপিতে আছে বেশ কিছু এন্টিঅক্সিডেন্ট। বার্ধক্যরোধ এবং মেদ কমাতে এটি আপনার মেনুতে আদর্শ খাবার হতে পারে।


facebooktwittergoogle_plusredditlinkedin
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। রোগ ভাল হয় না। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়ন্ত্রণে না রাখলে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ  বলতে রক্তের গ্লুকোজের  মাত্রা বাঞ্ছিত মাত্রায় থাকছে কী না, তা বোঝায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কত, তা পরীক্ষা করে দেখা যায়। প্রত্যহ সকালে খালিপেটে, নাস্তা খাওয়ার দুই ঘন্টা পরে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে- পরীক্ষাটি করতে হয়। খালিপেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা . মিলিমোল/লিটার-এর কম থাকা বাঞ্ছনীয়। নাস্তা খাওয়ার ঘন্টা পরে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা মিলিমোল/লিটার-এর কম থাকতে হবে। আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা মিলিমোল/লিটার-এর কম থাকতে হবে। যদি এরূপ থাকে, তাহলে বোঝা যাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। বিগত - মাস সময়কালে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কেমন ছিল, তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে রক্তের গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন (হিমোগ্লোবিন সি) পরীক্ষার মাধ্যমে। পরীক্ষাটি খালিপেটে বা খাওয়ার পরে, যে কোন অবস্থায়ই করা যায়। রক্তের গ্লাইকোসাইলেটেড  হিমোগ্লোবিন-এর মাত্রা ৭% এর কম থাকা কাম্য। ৭%-এর কম থাকলে বোঝা যাবে, বিগত মাসগুলোতে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছিল। অর্থাত্ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ছিল। ডায়াবেটিসকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখার উপায়গুলো হচ্ছে:

. নিয়মমত জীবন যাপন করা- নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ দিন হাঁটতে হবে। নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করতে হবে।

. খাবারদাবারে সচেতন হওয়া- সময়মত স্বাস্থ্যকর এবং  প্রয়োজনীয় ক্যালরির খাবার খেতে হবে। রিফাইন্ড শর্করা যেমন বেশি ছাঁটা চালের ভাত বা ময়দার রুটির চেয়ে কম রিফাইন্ড শর্করা যেমন লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ইত্যাদি খাওয়াই বেশি ভাল। খাবারে খাদ্যআঁঁশ থাকতে হবে পর্যাপ্ত। শাক-সবজি, ফল-মূল খাদ্যআঁঁশের ভালো উত্স।

. ওষুধ গ্রহণ করা- ওষুধের প্রেসক্রিপশন থাকলে সেসব ওষুধ সময়মত নিয়মমত গ্রহণ করতে হবে।

অধ্যাপক ডা.মো.শহীদুল্লাহ্
অধ্যাপক বিভাগীয় প্রধান কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
কমিউনিটি বেজ্ড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।

 সুত্রঃ- দৈনিক ইত্তেফাক, ১ এপ্রিল ২০১৭।

No comments:

Post a Comment